Skip to main content

প্রত্যয়-পাঠ / অভিজিৎ অভি


ব্যাকরণের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হল প্রকৃতি-প্রত্যয় (ব্যক্তিগত অভিমত)। তবে কিছু সহজ নিয়ম দিয়ে অনেকগুলো জটিল শব্দের প্রত্যয় সহজে ব্যাখ্যা করা যায়। আজ তেমন একটি নিয়ম দেখা যাক।
নিয়ম: উ+অ=ব।
ষ্ণ একটি তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়, এর ‘ষ’ ও ‘ণ’ ইৎ হয়ে যায় বা হারিয়ে যায় এবং শুধু ‘অ’ থাকে। যদি প্রকৃতির শেষে ‘উ’ থাকে, তাহলে উ আর অ মিলে ‘ব’ হয়ে যায়। এর সাথে আদিস্বরের বৃদ্ধিও(অ>আ, ই,ঈ>ঐ, উ,ঊ> ঔ, ঋ>আর) ঘটে। এই নিয়মের কতগুলো শব্দ:
মনু+ষ্ণ=মানবধাতু+ষ্ণ=ধাতববস্তু+ষ্ণ=বাস্তবপাণ্ডু+ষ্ণ=পাণ্ডবভৃগু+ষ্ণ=ভার্গবকুরু+ষ্ণ=কৌরবসুষ্ঠু+ষ্ণ=সৌষ্ঠববন্ধু+ষ্ণ=বান্ধবযদু+ষ্ণ=যাদবপশু+ষ্ণ=পাশবঋজু+ষ্ণ=আর্জবগুরু+ষ্ণ=গৌরবলঘু+ষ্ণ=লাঘবরঘু+ষ্ণ=রাঘববসু+ষ্ণ=বাসবজন্তু+ষ্ণ=জান্তবদনু+ষ্ণ=দানববিষ্ণু+ষ্ণ=বৈষ্ণবমধু+ষ্ণ=মাধব

ব্যাকরণের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হল প্রকৃতি-প্রত্যয় (ব্যক্তিগত অভিমত)। তবে কিছু সহজ নিয়ম দিয়ে অনেকগুলো জটিল শব্দের প্রত্যয় সহজে ব্যাখ্যা করা যায়। আজ তেমন একটি নিয়ম দেখা যাক।
নিয়ম: উ+অ=ব।
ষ্ণ একটি তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়, এর ‘ষ’ ও ‘ণ’ ইৎ হয়ে যায় বা হারিয়ে যায় এবং শুধু ‘অ’ থাকে। যদি প্রকৃতির শেষে ‘উ’ থাকে, তাহলে উ আর অ মিলে ‘ব’ হয়ে যায়। এর সাথে আদিস্বরের বৃদ্ধিও(অ>আ, ই,ঈ>ঐ, উ,ঊ> ঔ, ঋ>আর) ঘটে। এই নিয়মের কতগুলো শব্দ:
মনু+ষ্ণ=মানবধাতু+ষ্ণ=ধাতববস্তু+ষ্ণ=বাস্তবপাণ্ডু+ষ্ণ=পাণ্ডবভৃগু+ষ্ণ=ভার্গবকুরু+ষ্ণ=কৌরবসুষ্ঠু+ষ্ণ=সৌষ্ঠববন্ধু+ষ্ণ=বান্ধবযদু+ষ্ণ=যাদবপশু+ষ্ণ=পাশবঋজু+ষ্ণ=আর্জবগুরু+ষ্ণ=গৌরবলঘু+ষ্ণ=লাঘবরঘু+ষ্ণ=রাঘববসু+ষ্ণ=বাসবজন্তু+ষ্ণ=জান্তবদনু+ষ্ণ=দানববিষ্ণু+ষ্ণ=বৈষ্ণবমধু+ষ্ণ=মাধব

Comments

Popular posts from this blog

সত্তা সত্ত্ব সত্ত্বা / ড. মোহাম্মদ আমীন - শুবাচ

সত্তা/সত্ত্ব/সত্ত্বা

বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানমতে,
১. ‘সত্তা’ শব্দের অর্থ অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/বর্তমানতা।
২. সত্ত্ব শব্দের অর্থ স্বত্তা
সুতরাং সত্ত্ব = সত্তা =অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/ বর্তমানতা।
‘সত্ত্ব’ শব্দের আর একটি অর্থ আছে। সেটি হচ্ছে- ফলের রস দ্বারা প্রস্তুত কোন খাদ্যবস্তু।
যেমন: আমসত্ত্ব।
অনেকে ‘সত্তা/সত্ত্ব’ শব্দের পরিবর্তে ‘স্বত্ত্বা’ শব্দ লিখে থাকেন।
‘সত্ত্বা’ শব্দের অর্থ কী কিংবা আদৌ এমন শব্দ বাংলা ভাষায় আছে কিনা আমার জানা নেই।

প্রকৃতপক্ষে ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ভিন্ন অর্থদ্যোতক শব্দ। নিজের অধিকারে কোন কিছু আছে বুঝাতে স্বত্ব হবে। কেননা, স্ব মানে নিজে এবং ত্ব মানে অধিকারে। আর অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা বুঝাতে সৎ+ত্ব= সত্ত্ব । এর দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের মধ্যে শেষ্ঠ ‍গুণ। আর তৃতীয় অর্থ হলা- ফলের রস। এর বিশেষ্য হবে-সত্তা।
জনাব শহিদুলের ব্যাখ্যায় ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ শব্দের ব্যবহার নিশ্চয় আরও পরিষ্কার হয়ে গেল। অতএব ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ব্যবহারে আর কোন সংশয় থাকার কথা নয়।

জোড়কলম : খিচুড়ি শব্দ / ড. মোহাম্মদ আমীন

জোড়কলম শব্দ মানে দুটো শব্দের অংশ ও তার অর্থ একসঙ্গে প্যাক-করা নতুন শব্দ। যে দুটি শব্দ নিয়ে জোড়কলম শব্দ গঠিত হয় তাদের প্রথমটির শেষাংশ ও দ্বিতীয়টির প্রথমাংশ ছেঁটে ফেললে যা থাকে তার একত্রীকরণে শব্দটি তৈরি হয় । অনেকটা গাছের অঙ্গজপ্রজননের জোড়কলম পদ্ধতির মতো, হয় তো গাছের অঙ্গপ্রজননের এই ধারনা থেকেই জোড়কলম শব্দ নামের উৎপত্তি । সুকুমার রায় এ রকশ মিশ্র শব্দকে খিচুড়ি শব্দ বলেছেন। এরূপ জোড়কলম বা খিচুড়ি শব্দের পুরোতঠাকুর হচ্ছেন চার্লস ডজজন বা Lewis Carroll (1832-1898). ইংরেজিতে শব্দগুলোকে portmantue বলা হয়। নামটিও দিয়েছেন ক্যারল। তাঁর ব্যবহৃত কিছু জোড়কলম শব্দের নমুনা দেখন :
slithy = slimy + lithe
mimsy = miserable + filmsy
frumious = furious + fumy
snark = snake + shark

ক্যারলের একটি গল্পে গাছের ডালে উপরে পা নিচে-মাথা হয়ে ঝুলছে কয়েকটি মানুষ। ক্যারল গাছটির নাম দিয়েছিলেন manypeeplia upsidownia. upsidownia = upside + down + ia). ইংরেজিতে এরূপ প্রচুর শব্দ আছে। একটি শব্দের প্রথম অংশের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করা হয়েছে। উদাহরণ :
breakfast+lunch=brunch
motorist + …

কি কী / ড. মোহাম্মদ আমীন

১. ‘কি’ প্রশ্নবোধক অব্যয়। যে সকল প্রশ্নের ‍উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শব্দের মাধ্যমেও কিংবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও সন্তোষজনকভাবে দেওয়া যায় সে সকল প্রশ্নবোধক বাক্যে ‘কি’ লিখবেন। যেমন : আমি কি খাবো? (Shall I eat?), আমি কি আসতে পারি স্যার?
২. যে প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ‘ বা ‘না‘ দিয়ে কিংবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সন্তোষজনকভাবে দেওয়া সম্ভব নয় সে সকল প্রশ্নবোধক বাক্যে ‘কী’ লিখবেন। যেমন : আমি কী খাবো? (What will I eat?), তুমি কী চাও? (What do you want?), কী করে এতদূর এলে? তোমার বাবা কি সরকারি চাকরি করেন?
৩. ‘কী’ বিস্ময়সূচক পদ। বিস্ময়, অনিশ্চয়তা, অবজ্ঞা, সম্মান গৌরব বা প্রশংসা প্রভৃতি প্রকাশেও ‘কী’ ব্যবহার করা হয়। যেমন, বিস্ময় : কী দারুণ! অনিশ্চয়তা : কী জানি কী হয় না হয়। অবজ্ঞা : সে আবার কীসের গরিব? প্রশংসা : কী ধনী তিনি জানো? ছেলেটি কী সাহসী জানলে তুমি হতবাক হয়ে যাবে।
৪. কোনভাবে, কেন, কী কারণে, কেমন করে, কার মধ্যে, কেমন করে, কী প্রকারের, কেমন প্রভৃতি বুঝালে কী লিখতে হয়। যেমন : কীভাবে যাবে? কীজন্য এসেছ? কীরকম লোক তুমি? কীসে তোমার আগ্রহ? এত তাড়া কীসের? কীরূপ দেখতে সে? কী উপায়ে তোমাকে সাহায্য করতে…