Skip to main content

প্রত্যয়ন ও প্রত্যায়ন / ড. মোহাম্মদ আমীন


‘প্রত্যয়ন’ ও ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের সঙ্গে ‘প্রত্যয়’, ‘প্রত্যয়নপত্র’ ও ‘সত্যায়ন’ শব্দের নিবিড় আত্মীয়তা রয়েছে। ‘প্রত্যয়’ শব্দের অর্থ প্রতীতি, বিশ্বাস, নিশ্চয়াত্মক ধারণা, নিঃসন্দিগ্ধতা প্রভৃতি, এটি বিশেষ্য। ‘সত্যায়ন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, সত্যতা নিশ্চিতকরণ, ইংরেজি পরিভাষায় attestation । এটি বিশেষ্য পদ। ‘প্রত্যয়নপত্র’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, যে পত্রে কোনো দলিলের নির্ভুলতা প্রতিপাদন করা হয়। ‘প্রত্যয়িত’ শব্দের অর্থ, নির্ভুল বলে প্রতিপাদন করা হয়েছে এমন, সত্যায়িত, ইংরেজি পরিভাষায় attested. এটি বিশেষণ। 
‘প্রত্যয়ন’ শব্দের অর্থ, নির্ভুল বলে প্রতিপন্নকরণ, সত্যায়ন প্রভৃতি। এর ইংরেজি পরিভাষা attestation। এটি বিশেষ্য। তাহলে, জেলাম্যাজিস্ট্রেটের সনদের একটি অংশ “এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” কথাটির অর্থ হবে : “এই ‘মর্মে নির্ভুল বলে প্রতিপন্নকরণ করা/ নিশ্চিতকরণ করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” এখানে ‘প্রত্যয়ন’ শব্দ দিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। যেমন : জেলাম্যাজিস্ট্রেটের সনদ নিশ্চিত করলেন যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর। 
‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ প্রত্যয় উৎপাদন, বিশ্বাস সৃষ্টি, নিশ্চায়ত্মক ধারণা সৃষ্টি, নিঃসন্দিগ্ধতা উৎপাদন, সূচনা প্রভৃতি। শব্দটির ইংরেজি পরিভাষা attestation। এটিও বিশেষ্য। তাহলে,“এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” কথাটির অর্থ হবে : “এই মর্মে প্রত্যয়/ বিশ্বাস উৎপাদন করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” এখানে সত্যতা উৎপাদন করার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেমন : জেলাম্যাজিস্ট্রেটের সনদ দেখে আমাদের এ বিশ্বাস উৎপাদন হলো যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর। 
ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার আর ব্যক্তির সত্যতা উৎপাদন করা এক কথা নয়। ‘প্রত্যয়ন’ ও ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, কোনো ব্যক্তির পরিচয়কে নির্ভুলভাবে প্রতিপাদন করার জন্য কিংবা কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যয়ন লেখা যৌক্তিক। ‘প্রত্যয়ন’ শব্দটিতে ‘নির্ভুলভাবে প্রতিপাদন করা হয়েছে’ কথাটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পরিচয়কে নিভুল করার জন্য যে পত্র দেওয়া হয় সেটিতে প্রত্যয়ন লেখা সমীচীন। ‘প্রত্যয়ন’ পাওয়ার পর ‘প্রত্যায়ন’। যেহেতু প্রত্যয়ন দ্বারা ব্যক্তির পরিচয়কে নিশ্চিত করার অর্থটি প্রধানরূপে প্রতিভাত হচ্ছে, সেহেতু এক্ষেত্রে ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের চেয়ে ‘প্রত্যয়ন’ শব্দ ব্যবহার সমধিক যৌক্তিক। 
একটা শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ থাকে। তবে সবগুলো অর্থ একই সঙ্গে কার্যকর হয় না। যেমন এখানে প্রত্যয় শব্দের অর্থ যদি ব্যাকরণের প্রত্যয় ( যে শব্দাংশ নামপদ বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ নির্দেশ করে) ধরা হয় তাহলে কেমন হয়? এজন্য `প্রত্যয়ন' ও `প্রত্যায়ন' উভয় শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে সত্যায়ন/ attestation কথাটি থাকলেও সবক্ষেত্রে এটাকে প্রয়োগ করা সমীচীন হবে না।



‘প্রত্যয়ন’ ও ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের সঙ্গে ‘প্রত্যয়’, ‘প্রত্যয়নপত্র’ ও ‘সত্যায়ন’ শব্দের নিবিড় আত্মীয়তা রয়েছে। ‘প্রত্যয়’ শব্দের অর্থ প্রতীতি, বিশ্বাস, নিশ্চয়াত্মক ধারণা, নিঃসন্দিগ্ধতা প্রভৃতি, এটি বিশেষ্য। ‘সত্যায়ন’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, সত্যতা নিশ্চিতকরণ, ইংরেজি পরিভাষায় attestation । এটি বিশেষ্য পদ। ‘প্রত্যয়নপত্র’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, যে পত্রে কোনো দলিলের নির্ভুলতা প্রতিপাদন করা হয়। ‘প্রত্যয়িত’ শব্দের অর্থ, নির্ভুল বলে প্রতিপাদন করা হয়েছে এমন, সত্যায়িত, ইংরেজি পরিভাষায় attested. এটি বিশেষণ। 
‘প্রত্যয়ন’ শব্দের অর্থ, নির্ভুল বলে প্রতিপন্নকরণ, সত্যায়ন প্রভৃতি। এর ইংরেজি পরিভাষা attestation। এটি বিশেষ্য। তাহলে, জেলাম্যাজিস্ট্রেটের সনদের একটি অংশ “এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” কথাটির অর্থ হবে : “এই ‘মর্মে নির্ভুল বলে প্রতিপন্নকরণ করা/ নিশ্চিতকরণ করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” এখানে ‘প্রত্যয়ন’ শব্দ দিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। যেমন : জেলাম্যাজিস্ট্রেটের সনদ নিশ্চিত করলেন যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর। 
‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ প্রত্যয় উৎপাদন, বিশ্বাস সৃষ্টি, নিশ্চায়ত্মক ধারণা সৃষ্টি, নিঃসন্দিগ্ধতা উৎপাদন, সূচনা প্রভৃতি। শব্দটির ইংরেজি পরিভাষা attestation। এটিও বিশেষ্য। তাহলে,“এই মর্মে প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” কথাটির অর্থ হবে : “এই মর্মে প্রত্যয়/ বিশ্বাস উৎপাদন করা যাচ্ছে যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর।” এখানে সত্যতা উৎপাদন করার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেমন : জেলাম্যাজিস্ট্রেটের সনদ দেখে আমাদের এ বিশ্বাস উৎপাদন হলো যে, করিম সাহেবের বড়ো ছেলের নাম জাফর। 
ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার আর ব্যক্তির সত্যতা উৎপাদন করা এক কথা নয়। ‘প্রত্যয়ন’ ও ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের অর্থ আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, কোনো ব্যক্তির পরিচয়কে নির্ভুলভাবে প্রতিপাদন করার জন্য কিংবা কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যয়ন লেখা যৌক্তিক। ‘প্রত্যয়ন’ শব্দটিতে ‘নির্ভুলভাবে প্রতিপাদন করা হয়েছে’ কথাটি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পরিচয়কে নিভুল করার জন্য যে পত্র দেওয়া হয় সেটিতে প্রত্যয়ন লেখা সমীচীন। ‘প্রত্যয়ন’ পাওয়ার পর ‘প্রত্যায়ন’। যেহেতু প্রত্যয়ন দ্বারা ব্যক্তির পরিচয়কে নিশ্চিত করার অর্থটি প্রধানরূপে প্রতিভাত হচ্ছে, সেহেতু এক্ষেত্রে ‘প্রত্যায়ন’ শব্দের চেয়ে ‘প্রত্যয়ন’ শব্দ ব্যবহার সমধিক যৌক্তিক। 
একটা শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ থাকে। তবে সবগুলো অর্থ একই সঙ্গে কার্যকর হয় না। যেমন এখানে প্রত্যয় শব্দের অর্থ যদি ব্যাকরণের প্রত্যয় ( যে শব্দাংশ নামপদ বা ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ নির্দেশ করে) ধরা হয় তাহলে কেমন হয়? এজন্য `প্রত্যয়ন' ও `প্রত্যায়ন' উভয় শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে সত্যায়ন/ attestation কথাটি থাকলেও সবক্ষেত্রে এটাকে প্রয়োগ করা সমীচীন হবে না।


Comments

Popular posts from this blog

সত্তা সত্ত্ব সত্ত্বা / ড. মোহাম্মদ আমীন - শুবাচ

সত্তা/সত্ত্ব/সত্ত্বা

বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানমতে,
১. ‘সত্তা’ শব্দের অর্থ অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/বর্তমানতা।
২. সত্ত্ব শব্দের অর্থ স্বত্তা
সুতরাং সত্ত্ব = সত্তা =অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/ বর্তমানতা।
‘সত্ত্ব’ শব্দের আর একটি অর্থ আছে। সেটি হচ্ছে- ফলের রস দ্বারা প্রস্তুত কোন খাদ্যবস্তু।
যেমন: আমসত্ত্ব।
অনেকে ‘সত্তা/সত্ত্ব’ শব্দের পরিবর্তে ‘স্বত্ত্বা’ শব্দ লিখে থাকেন।
‘সত্ত্বা’ শব্দের অর্থ কী কিংবা আদৌ এমন শব্দ বাংলা ভাষায় আছে কিনা আমার জানা নেই।

প্রকৃতপক্ষে ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ভিন্ন অর্থদ্যোতক শব্দ। নিজের অধিকারে কোন কিছু আছে বুঝাতে স্বত্ব হবে। কেননা, স্ব মানে নিজে এবং ত্ব মানে অধিকারে। আর অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা বুঝাতে সৎ+ত্ব= সত্ত্ব । এর দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের মধ্যে শেষ্ঠ ‍গুণ। আর তৃতীয় অর্থ হলা- ফলের রস। এর বিশেষ্য হবে-সত্তা।
জনাব শহিদুলের ব্যাখ্যায় ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ শব্দের ব্যবহার নিশ্চয় আরও পরিষ্কার হয়ে গেল। অতএব ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ব্যবহারে আর কোন সংশয় থাকার কথা নয়।

জোড়কলম : খিচুড়ি শব্দ / ড. মোহাম্মদ আমীন

জোড়কলম শব্দ মানে দুটো শব্দের অংশ ও তার অর্থ একসঙ্গে প্যাক-করা নতুন শব্দ। যে দুটি শব্দ নিয়ে জোড়কলম শব্দ গঠিত হয় তাদের প্রথমটির শেষাংশ ও দ্বিতীয়টির প্রথমাংশ ছেঁটে ফেললে যা থাকে তার একত্রীকরণে শব্দটি তৈরি হয় । অনেকটা গাছের অঙ্গজপ্রজননের জোড়কলম পদ্ধতির মতো, হয় তো গাছের অঙ্গপ্রজননের এই ধারনা থেকেই জোড়কলম শব্দ নামের উৎপত্তি । সুকুমার রায় এ রকশ মিশ্র শব্দকে খিচুড়ি শব্দ বলেছেন। এরূপ জোড়কলম বা খিচুড়ি শব্দের পুরোতঠাকুর হচ্ছেন চার্লস ডজজন বা Lewis Carroll (1832-1898). ইংরেজিতে শব্দগুলোকে portmantue বলা হয়। নামটিও দিয়েছেন ক্যারল। তাঁর ব্যবহৃত কিছু জোড়কলম শব্দের নমুনা দেখন :
slithy = slimy + lithe
mimsy = miserable + filmsy
frumious = furious + fumy
snark = snake + shark

ক্যারলের একটি গল্পে গাছের ডালে উপরে পা নিচে-মাথা হয়ে ঝুলছে কয়েকটি মানুষ। ক্যারল গাছটির নাম দিয়েছিলেন manypeeplia upsidownia. upsidownia = upside + down + ia). ইংরেজিতে এরূপ প্রচুর শব্দ আছে। একটি শব্দের প্রথম অংশের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করা হয়েছে। উদাহরণ :
breakfast+lunch=brunch
motorist + …

তৎসম চেনার কৌশল / ড. মোহাম্মদ আমীন

তৎসম শব্দ চেনার কৌশল
১। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ী ‘ঈ ঊ ঋ এবং এ তিনটি বর্ণের কারচিহ্ন ‘ী, ‍ূ, ‍ৃ’- যুক্ত সব শব্দই তৎসম শব্দ।
২। মূর্ধন্য-ণ যুক্ত সব শব্দ তৎসম।
৩। যেসব শব্দের পূর্বে প্র, পরা, অপ, সম, অব, অনু, নির(নিঃ), দুর(দুঃ), উৎ, অধি, পরি, প্রতি, উপ, অভি, অতি প্রভৃতি উপসর্গ যুক্ত থাকে সেগুলো তৎসম শব্দ হবে।
৪। ক্ত্র, ক্ম, ক্ষ, ক্ষ্ণ, ক্ষ্য, ক্ষ্ম, ক্ষ্ম্য, গ্ধ, গ্ন্য, গ্ম, ঘ্ন, ঙ্ক্ষ, ঙ্ম, চ্ছ্ব, চ্ছ্র, জ্ঝ, জ্ঞ, ঞ্ছ, ঢ্র, ত্ত্ব, ত্ম্য, ত্র্য, দ্ব্য, দ্ম, ধ্ন, ধ্ম, ন্ত্য, ন্ত্ব, ন্ত্র, ন্ত্র্য, ন্দ্ব, ন্ধ্য, ন্ধ্র, ন্ন্য, ল্ম, শ্ছ, শ্ম, ষ্ক্র, ষ্ট্য, ষ্ট্র, ষ্ব, ষ্ম, স্ত্য, স্থ্য, হ্ন্য, হ্ম, হ্ল ইত্যাদি যুক্তবর্ণ কেবল তৎসম শব্দে দেখা যায়। অতএব এমন যুক্তবর্ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম।
৫। বিসর্গযুক্ত শব্দগুলো এবং বিসর্গসন্ধিসাধিত শব্দগুলো তৎসম শব্দ।
৬। বহুবচনবাচক গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ, আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি প্রভৃতি থাকলে শব্দ তৎসম হয়।
৭। সমাসবদ্ধ পদের একটি অংশ তৎসম জানা থাকলে অপর অংশটি এবং সমস্তপদটিও তৎসম হয়। যেমন চন্দ্রমুখ শব্দে চন্দ্র অংশটি তৎসম জানা …