Skip to main content

কানা বগীর ছা / ড. মোহাম্মদ আমীন



ছড়াকে অনেকে অর্থহীন বলে থাকেন। অর্থপূর্ণ শব্দ দিয়ে ছড়া লেখা হয়। তাই কোনো ছড়া অর্থহীন হতে পারে না। বরং আপাত অর্থহীনতার আড়ালে লুকিয়ে থাকে ব্যাপক অর্থ ও বিস্তৃত অনুবোধ। খান মুহম্মদ মঈনুদ্দিনের ‘কানা বগীর ছা’ ছড়াটির ভাবার্থ দেখুন।
ঐ দেখা যায় তাল গাছ
ঐ আমাদের গাঁ,
ঐ খানেতে বাস করে
কানা বগীর ছা ।
ও বগী তুই চাস কি?
পান্তা ভাত খাস কি ?
পান্তা আমি খাই না
পুঁটি মাছ পাই না,
একটা যদি পাই;
অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই।
শব্দার্থ :
তাল গাছ : আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত সবুজে সমৃদ্ধ, সমৃদ্ধতার চিহ্ন।
কানা বগী : সাধারণ মানুষ, কৃষক, মজুর, শ্রমজীবী।
চাস : লোভ-লালসা, চাওয়া পাওয়া।
পান্তা ভাত : প্রকৃতির অবারিত দান।
পুঁটি মাছ : সাধারণ বিষয়-বস্তু, চাহিদা।
গাপুসগুপুস : খুব আনন্দ, মহাতৃপ্তি।
ভাবার্থ : আমাদের গ্রাম মাটি হতে আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত সবুজে সমৃদ্ধ। সেই সবুজ সমৃদ্ধ গ্রামে কোনো রুই-কাতলা বাস করে না। যারা বাস করে তারা, অধিকাংশই কৃষক, মজুর, শ্রমজীবী। ওই সাধারণ মানুষগুলোর লোভ-লালসা নেই বললেই চলে। ওরা কিছুই চাই না।ওখানে প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য্য এতই অবারিত যে, না চাইতে সব এসে ভীড় করে। তাই এসবের জন্য গ্রামবাসীকে লোভাতুর থাকতে হয় না। অল্পতে এরা তুষ্ট। পুঁটিমাছের মতো সামান্য জিনিস তাদের তৃপ্তি, প্রত্যাশা এবং আনন্দকে উৎসবে পরিণত করে দেয়।
[তথাকথিত আধুনিকতার ছোঁয়া এখন মহামারীর মতো বিস্তৃত হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে উপশহর হয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে। তাই, এ ছড়ায় গ্রাম বাংলার যে দৃশ্যকে ভাবার্থে ‍তুলে ধরা হয়েছে সেরূপ গ্রামের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।]
--------------------------------------------------------------
সূত্র : ড. মোহাম্মদ আমীন, ছড়া-কথা মড়া নয় (প্রবন্ধ)।

Comments

Popular posts from this blog

কি কী / ড. মোহাম্মদ আমীন

১. ‘কি’প্রশ্নবোধকঅব্যয়।যেসকলপ্রশ্নের ‍উত্তর ‘হ্যাঁ’বা ‘না’শব্দের মাধ্যমেও কিংবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও সন্তোষজনকভাবেদেওয়াযায়সেসকলপ্রশ্নবোধকবাক্যে ‘কি’ লিখবেন। যেমন : আমিকিখাবো? (Shall I eat?),  আমি কি আসতে পারি স্যার?  ২. যেপ্রশ্নেরউত্তর ‘হ্যাঁ‘ বা ‘না‘ দিয়ে কিংবা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেসন্তোষজনকভাবে  দেওয়া সম্ভবনয়সেসকলপ্রশ্নবোধকবাক্যে ‘কী’ লিখবেন। যেমন : আমিকীখাবো? (What will I eat?), তুমি কী চাও? (What do you want?), কী করে এতদূর এলে? তোমার বাবা কি সরকারি চাকরি করেন?

৩. ‘কী’ বিস্ময়সূচক পদ। বিস্ময়, অনিশ্চয়তা, অবজ্ঞা, সম্মান গৌরব বা প্রশংসা প্রভৃতি প্রকাশেও ‘কী’ ব্যবহার করা হয়। যেমন,বিস্ময় : কী দারুণ!  অনিশ্চয়তা : কী জানি কী হয় না হয়।অবজ্ঞা : সে আবার কীসের গরিব? প্রশংসা :  কী ধনী তিনি জানো? ছেলেটি কী সাহসী জানলে তুমি হতবাক হয়ে যাবে।

জোড়কলম : খিচুড়ি শব্দ / ড. মোহাম্মদ আমীন

জোড়কলম শব্দ মানে দুটো শব্দের অংশ ও তার অর্থ একসঙ্গে প্যাক-করা নতুন শব্দ। যে দুটি শব্দ নিয়ে জোড়কলম শব্দ গঠিত হয় তাদের প্রথমটির শেষাংশ ও দ্বিতীয়টির প্রথমাংশ ছেঁটে ফেললে যা থাকে তার একত্রীকরণে শব্দটি তৈরি হয়  । অনেকটা গাছের অঙ্গজপ্রজননের জোড়কলম পদ্ধতির মতো, হয় তো গাছের অঙ্গপ্রজননের এই ধারনা থেকেই জোড়কলম শব্দ নামের উৎপত্তি । সুকুমার রায় এ রকশ মিশ্র শব্দকে খিচুড়ি শব্দ বলেছেন। এরূপ জোড়কলম বা খিচুড়ি শব্দের পুরোতঠাকুর হচ্ছেন চার্লস ডজজন বা Lewis Carroll (1832-1898). ইংরেজিতে শব্দগুলোকে portmantue বলা হয়। নামটিও দিয়েছেন ক্যারল। তাঁর ব্যবহৃত কিছু জোড়কলম শব্দের নমুনা দেখন : slithy  = slimy + lithe mimsy = miserable + filmsy frumious = furious + fumy snark = snake + shark
ক্যারলের একটি গল্পে গাছের ডালে উপরে পা নিচে-মাথা হয়ে ঝুলছে কয়েকটি মানুষ। ক্যারল গাছটির নাম দিয়েছিলেন manypeeplia upsidownia. upsidownia = upside + down + ia). ইংরেজিতে এরূপ প্রচুর শব্দ আছে। একটি শব্দের প্রথম অংশের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করা হয়েছে।  উদাহরণ : breakfast+lunch=brunch motorist …