ভালোবাসার ভালোবাসা / শ্রাবন্তী নাহা অথৈ

ভালোবাসা দিবসে উপহারের জন্য ভালোবাসার শ্রেষ্ঠ দুটি বই

শ্রাবন্তী নাহা অথৈ

বইয়ের চেয়ে উত্তম উপহার এবং ভালোবাসার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ আর নেই। আর এই দুটির সমন্বয় যদি ঘটানো যায় তাহলে যে কারো জীবন হয়ে ওঠে মধুর এবং ভালোবাসাময়। যে জীবনে ভালোবাসা থাকে সে জীবনে সবকিছু পাওয়া হয়ে যায়। জীবন হয়ে ওঠে স্বর্গীয় প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশিত সুখের বিরল উৎস। প্রত্যেকের চিন্তা-চেতনা, চাওয়া-পাওয়া, রুচি-অরুচির ভিন্নতা আছে, আলাদা অনুভূতি আছে, যা ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন। কিন্তু ভালোবাসা এবং বস্তু হিসেবে বইয়ের ক্ষেত্রে সবার ইচ্ছা অভিন্ন। ভালোবাসা পেলে যে খুশি হয় না সে পশুও নয়, জড়; মরা লাশ। বই পেয়ে যে আপ্লুত হয় না, সে লাশের চেয়েও অধম। তবে বই হতে হবে প্রিয়জনের মনকে নাড়া দেওয়ার মতো অনিন্দ্য। আমি এখানে এমন দুটি বই নিয়ে আলোচনা করব, যে বই দুটি আপনার প্রিয়জনকে দিলে এবং আপনার প্রিয়জন আপনাকে দিলে পরস্পরের প্রতি শুধু ভালোবাসা নয়, গভীর কৃতজ্ঞতার নিবিড় আবেশে নতুন একটা জগৎ সৃষ্টি হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে যাবে। বহুগুণ বেড়ে যাবে পরস্পর প্রীতি। কারণ বই দুটিতে এমন বিষয় আছে, যা ভালোবাসার মূল্য কী এবং কীভাবে, কোথায় কাকে ভালোবাস দিতে হয় এবং…

তৎসম চেনার কৌশল / ড. মোহাম্মদ আমীন

তৎসম শব্দ চেনার কৌশল
১। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ী ‘ঈ ঊ ঋ এবং এ তিনটি বর্ণের কারচিহ্ন ‘ী, ‍ূ, ‍ৃ’- যুক্ত সব শব্দই তৎসম শব্দ।
২। মূর্ধন্য-ণ যুক্ত সব শব্দ তৎসম।
৩। যেসব শব্দের পূর্বে প্র, পরা, অপ, সম, অব, অনু, নির(নিঃ), দুর(দুঃ), উৎ, অধি, পরি, প্রতি, উপ, অভি, অতি প্রভৃতি উপসর্গ যুক্ত থাকে সেগুলো তৎসম শব্দ হবে।
৪। ক্ত্র, ক্ম, ক্ষ, ক্ষ্ণ, ক্ষ্য, ক্ষ্ম, ক্ষ্ম্য, গ্ধ, গ্ন্য, গ্ম, ঘ্ন, ঙ্ক্ষ, ঙ্ম, চ্ছ্ব, চ্ছ্র, জ্ঝ, জ্ঞ, ঞ্ছ, ঢ্র, ত্ত্ব, ত্ম্য, ত্র্য, দ্ব্য, দ্ম, ধ্ন, ধ্ম, ন্ত্য, ন্ত্ব, ন্ত্র, ন্ত্র্য, ন্দ্ব, ন্ধ্য, ন্ধ্র, ন্ন্য, ল্ম, শ্ছ, শ্ম, ষ্ক্র, ষ্ট্য, ষ্ট্র, ষ্ব, ষ্ম, স্ত্য, স্থ্য, হ্ন্য, হ্ম, হ্ল ইত্যাদি যুক্তবর্ণ কেবল তৎসম শব্দে দেখা যায়। অতএব এমন যুক্তবর্ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম।
৫। বিসর্গযুক্ত শব্দগুলো এবং বিসর্গসন্ধিসাধিত শব্দগুলো তৎসম শব্দ।
৬। বহুবচনবাচক গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ, আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি প্রভৃতি থাকলে শব্দ তৎসম হয়।
৭। সমাসবদ্ধ পদের একটি অংশ তৎসম জানা থাকলে অপর অংশটি এবং সমস্তপদটিও তৎসম হয়। যেমন চন্দ্রমুখ শব্দে চন্দ্র অংশটি তৎসম জানা থাকলে বলা যায় ‘মুখ’ এবং ‘চন্দ্রমুখ’ শব্দদ্বয়ও তৎসম।
৮। উপমান কর্মধারয়, উপমিত কর্মধারয় এবং রূপক কর্মধারয় সমাস দ্বারা সাধিত শব্দগুলো সাধারণত তৎসম হয়।
৯। অব্যয়ীভাব এবং প্রাদি সমাস দ্বারা সাধিত পদগুলো সাধারণত তৎসম হয়। তবে ব্যতিক্রমও আছে।
১০। শব্দের শেষে -তব্য এবং -অনীয় থাকলে সেসব শব্দ তৎসম হয়। যেমন : কর্তব্য, দ্রষ্টব্য, ভবিতব্য, করণীয়, দর্শনীয় প্রভৃতি তৎসম।
১১। শব্দের শেষে তা, ত্ব, তর, তম, বান, মান, এয়, র্য প্রভৃতি থাকলে সাধারণত শব্দগুলো তৎসম হয়।
১২। অব্যয়পদের শেষে ত থাকলে তা সাধারণ তৎসম হয়। যেমন : প্রথমত, অন্তত, জ্ঞানত। তবে এ নিয়মের আওতায় পড়ে না, এমন বহু তৎসম শব্দ বাংলায় ব্যবহৃত হয়। সেসব শব্দগুলো আয়ত্তে আনার জন্য চর্চা প্রয়োজন।
সহজে অতৎসম শব্দ চেনার উপায়
১। ষ যুক্ত অধিকাংশ শব্দ তৎসম, কিন্তু সকল শব্দ তৎসম নয়। যেমন পোষা, ষোলো, বোষ্টম প্রভৃতি তৎসম নয়।
২। চন্দ্রবিন্দুযুক্ত কোন শব্দই তৎসম নয়।

Comments