Skip to main content

বৃহন্নলা / ড. মোহাম্মদ আমীন - শুবাচ

বৃহন্নলা :

বৃহৎ + নল + আ = বৃহন্নলা। এর মানে দীর্ঘভুজা। অর্জুন নপুংসক ছিলেন এক বছর, কিন্তু তিনি সেই সময় কি নিজের নাম হিজড়া শব্দের প্রতিশব্দে রাখবেন? অর্জুন দীর্ঘ হাত (আজানুলম্বিত) ছিলেন বলেই ঐ নাম ধারণ করেন। ব্লগ লেখক হিজড়াদের বৃহন্নলা নামে ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র, তাতে বৃহন্নলা শব্দের মানে হিজড়া বোধ হল না। কোন অভিধান কি বৃহন্নলা শব্দের হিজড়া অর্থ গ্রহণ করেছে? সংসদ বাংলা অভিধান (২০১১) লিখেছে: "বৃহন্নলা বিণ. দীর্ঘভুজা, দীর্ঘ বাহুবিশিষ্টা। বি. অজ্ঞাতবাসকালে ক্লীববেশী অর্জুনের ছদ্মনাম; (আল.) ক্লীব। আমি বৃহন্নলা শব্দের মানেটা প্রথম পাই হুমায়ুন আহমেদের বই পড়ে। এর পরে আমার এক বন্ধু মাধ্যমে জানতে পারি, ইবি তে ইংরেজি লিটারেচার এ অনার্স করার সময় তাদের শিক্ষক পড়িয়েছিলেন "হারমোফ্রডাইট" মানে হচ্ছে ন-পুংসক, এবং শিক্ষক বলেছিলেন বৃহন্নলা একই শব্দার্থ নির্দেশ করলেও এটা উদ্ভীদ জাতীয়কে বুঝানো হয়।
অর্জুন কি নাম নিয়েছিলেন কেন নিয়েছিলেন সেটা আরেক কাহিনী। তার কর্মের সাথেই/ ইচ্ছার সাথেই সব শব্দের মানে হবে এমন কিছু নিয়ম মেনে চলে না ভাষা। হয়তো অর্জুন তার নাম বৃহন্নলা রেখেছিলেম লম্বা হাতের কারনে, কিন্তু অনেকে তার ন-পুংশকতা বোঝাতেই পরবর্তীতে হিজড়ার প্রতিশব্দ হিসাবে এটা ব্যাবহার করে আসছে।
মূলত বৃহন্নলা - ক্লীবরূপী অর্জুন। অর্জুন অস্ত্রশিক্ষার্থ স্বর্গবাসকালে উর্বশীকে প্রত্যাখান করার জন্য উর্বশীর অভিশাপে ক্লীবত্ব প্রাপ্ত হন। অজ্ঞাতবাসের বৎসরে অর্জুন ক্লীবরূপে এই নাম গ্রহণ করেন।"
বৃহন্নলা :

বৃহৎ + নল + আ = বৃহন্নলা। এর মানে দীর্ঘভুজা। অর্জুন নপুংসক ছিলেন এক বছর, কিন্তু তিনি সেই সময় কি নিজের নাম হিজড়া শব্দের প্রতিশব্দে রাখবেন? অর্জুন দীর্ঘ হাত (আজানুলম্বিত) ছিলেন বলেই ঐ নাম ধারণ করেন। ব্লগ লেখক হিজড়াদের বৃহন্নলা নামে ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র, তাতে বৃহন্নলা শব্দের মানে হিজড়া বোধ হল না। কোন অভিধান কি বৃহন্নলা শব্দের হিজড়া অর্থ গ্রহণ করেছে? সংসদ বাংলা অভিধান (২০১১) লিখেছে: "বৃহন্নলা বিণ. দীর্ঘভুজা, দীর্ঘ বাহুবিশিষ্টা। বি. অজ্ঞাতবাসকালে ক্লীববেশী অর্জুনের ছদ্মনাম; (আল.) ক্লীব। আমি বৃহন্নলা শব্দের মানেটা প্রথম পাই হুমায়ুন আহমেদের বই পড়ে। এর পরে আমার এক বন্ধু মাধ্যমে জানতে পারি, ইবি তে ইংরেজি লিটারেচার এ অনার্স করার সময় তাদের শিক্ষক পড়িয়েছিলেন "হারমোফ্রডাইট" মানে হচ্ছে ন-পুংসক, এবং শিক্ষক বলেছিলেন বৃহন্নলা একই শব্দার্থ নির্দেশ করলেও এটা উদ্ভীদ জাতীয়কে বুঝানো হয়।
অর্জুন কি নাম নিয়েছিলেন কেন নিয়েছিলেন সেটা আরেক কাহিনী। তার কর্মের সাথেই/ ইচ্ছার সাথেই সব শব্দের মানে হবে এমন কিছু নিয়ম মেনে চলে না ভাষা। হয়তো অর্জুন তার নাম বৃহন্নলা রেখেছিলেম লম্বা হাতের কারনে, কিন্তু অনেকে তার ন-পুংশকতা বোঝাতেই পরবর্তীতে হিজড়ার প্রতিশব্দ হিসাবে এটা ব্যাবহার করে আসছে।
মূলত বৃহন্নলা - ক্লীবরূপী অর্জুন। অর্জুন অস্ত্রশিক্ষার্থ স্বর্গবাসকালে উর্বশীকে প্রত্যাখান করার জন্য উর্বশীর অভিশাপে ক্লীবত্ব প্রাপ্ত হন। অজ্ঞাতবাসের বৎসরে অর্জুন ক্লীবরূপে এই নাম গ্রহণ করেন।"

Comments

Popular posts from this blog

সত্তা সত্ত্ব সত্ত্বা / ড. মোহাম্মদ আমীন - শুবাচ

সত্তা/সত্ত্ব/সত্ত্বা

বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানমতে,
১. ‘সত্তা’ শব্দের অর্থ অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/বর্তমানতা।
২. সত্ত্ব শব্দের অর্থ স্বত্তা
সুতরাং সত্ত্ব = সত্তা =অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/ বর্তমানতা।
‘সত্ত্ব’ শব্দের আর একটি অর্থ আছে। সেটি হচ্ছে- ফলের রস দ্বারা প্রস্তুত কোন খাদ্যবস্তু।
যেমন: আমসত্ত্ব।
অনেকে ‘সত্তা/সত্ত্ব’ শব্দের পরিবর্তে ‘স্বত্ত্বা’ শব্দ লিখে থাকেন।
‘সত্ত্বা’ শব্দের অর্থ কী কিংবা আদৌ এমন শব্দ বাংলা ভাষায় আছে কিনা আমার জানা নেই।

প্রকৃতপক্ষে ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ভিন্ন অর্থদ্যোতক শব্দ। নিজের অধিকারে কোন কিছু আছে বুঝাতে স্বত্ব হবে। কেননা, স্ব মানে নিজে এবং ত্ব মানে অধিকারে। আর অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা বুঝাতে সৎ+ত্ব= সত্ত্ব । এর দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের মধ্যে শেষ্ঠ ‍গুণ। আর তৃতীয় অর্থ হলা- ফলের রস। এর বিশেষ্য হবে-সত্তা।
জনাব শহিদুলের ব্যাখ্যায় ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ শব্দের ব্যবহার নিশ্চয় আরও পরিষ্কার হয়ে গেল। অতএব ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ব্যবহারে আর কোন সংশয় থাকার কথা নয়।

জোড়কলম : খিচুড়ি শব্দ / ড. মোহাম্মদ আমীন

জোড়কলম শব্দ মানে দুটো শব্দের অংশ ও তার অর্থ একসঙ্গে প্যাক-করা নতুন শব্দ। যে দুটি শব্দ নিয়ে জোড়কলম শব্দ গঠিত হয় তাদের প্রথমটির শেষাংশ ও দ্বিতীয়টির প্রথমাংশ ছেঁটে ফেললে যা থাকে তার একত্রীকরণে শব্দটি তৈরি হয় । অনেকটা গাছের অঙ্গজপ্রজননের জোড়কলম পদ্ধতির মতো, হয় তো গাছের অঙ্গপ্রজননের এই ধারনা থেকেই জোড়কলম শব্দ নামের উৎপত্তি । সুকুমার রায় এ রকশ মিশ্র শব্দকে খিচুড়ি শব্দ বলেছেন। এরূপ জোড়কলম বা খিচুড়ি শব্দের পুরোতঠাকুর হচ্ছেন চার্লস ডজজন বা Lewis Carroll (1832-1898). ইংরেজিতে শব্দগুলোকে portmantue বলা হয়। নামটিও দিয়েছেন ক্যারল। তাঁর ব্যবহৃত কিছু জোড়কলম শব্দের নমুনা দেখন :
slithy = slimy + lithe
mimsy = miserable + filmsy
frumious = furious + fumy
snark = snake + shark

ক্যারলের একটি গল্পে গাছের ডালে উপরে পা নিচে-মাথা হয়ে ঝুলছে কয়েকটি মানুষ। ক্যারল গাছটির নাম দিয়েছিলেন manypeeplia upsidownia. upsidownia = upside + down + ia). ইংরেজিতে এরূপ প্রচুর শব্দ আছে। একটি শব্দের প্রথম অংশের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করা হয়েছে। উদাহরণ :
breakfast+lunch=brunch
motorist + …

তৎসম চেনার কৌশল / ড. মোহাম্মদ আমীন

তৎসম শব্দ চেনার কৌশল
১। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ী ‘ঈ ঊ ঋ এবং এ তিনটি বর্ণের কারচিহ্ন ‘ী, ‍ূ, ‍ৃ’- যুক্ত সব শব্দই তৎসম শব্দ।
২। মূর্ধন্য-ণ যুক্ত সব শব্দ তৎসম।
৩। যেসব শব্দের পূর্বে প্র, পরা, অপ, সম, অব, অনু, নির(নিঃ), দুর(দুঃ), উৎ, অধি, পরি, প্রতি, উপ, অভি, অতি প্রভৃতি উপসর্গ যুক্ত থাকে সেগুলো তৎসম শব্দ হবে।
৪। ক্ত্র, ক্ম, ক্ষ, ক্ষ্ণ, ক্ষ্য, ক্ষ্ম, ক্ষ্ম্য, গ্ধ, গ্ন্য, গ্ম, ঘ্ন, ঙ্ক্ষ, ঙ্ম, চ্ছ্ব, চ্ছ্র, জ্ঝ, জ্ঞ, ঞ্ছ, ঢ্র, ত্ত্ব, ত্ম্য, ত্র্য, দ্ব্য, দ্ম, ধ্ন, ধ্ম, ন্ত্য, ন্ত্ব, ন্ত্র, ন্ত্র্য, ন্দ্ব, ন্ধ্য, ন্ধ্র, ন্ন্য, ল্ম, শ্ছ, শ্ম, ষ্ক্র, ষ্ট্য, ষ্ট্র, ষ্ব, ষ্ম, স্ত্য, স্থ্য, হ্ন্য, হ্ম, হ্ল ইত্যাদি যুক্তবর্ণ কেবল তৎসম শব্দে দেখা যায়। অতএব এমন যুক্তবর্ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম।
৫। বিসর্গযুক্ত শব্দগুলো এবং বিসর্গসন্ধিসাধিত শব্দগুলো তৎসম শব্দ।
৬। বহুবচনবাচক গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ, আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি প্রভৃতি থাকলে শব্দ তৎসম হয়।
৭। সমাসবদ্ধ পদের একটি অংশ তৎসম জানা থাকলে অপর অংশটি এবং সমস্তপদটিও তৎসম হয়। যেমন চন্দ্রমুখ শব্দে চন্দ্র অংশটি তৎসম জানা …