Skip to main content

প্রবন্ধ ও নিবন্ধ / ড. মোহাম্মদ আমীন

প্রবন্ধ ও নিবন্ধ

সংস্কৃত ভাষায় 'প্রবন্ধ' শব্দের সাধারণ অর্থ 'উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা', কিন্তু বাংলায় শব্দটির অর্থ দাঁড়িয়ে গেছে essay বা রচনা অর্থে। প্রবন্ধ শব্দের মূলানুগ অর্থ 'প্রকৃষ্ট বন্ধন যার', বাংলায় রচনা মাত্রই প্রবন্ধ ('আলগোছে তফাতে থেকে সমালোচনা প্রবন্ধে একটু-আধটু ঠোকর দেয় অনেকেই - অনুকরণ না হনুকরণ'- সৈয়দ মুজতবা আলী)।সংস্কৃত ভাষায় 'নিবন্ধ' শব্দটি অদৃষ্ট, ভাগ্যের লিখন, নিমিত্ত এমনসব অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখেছি। একই অর্থে বাংলায়ও প্রয়োগ আছে। যেমন- 'নিবন্ধ খণ্ডাইতে পারে শকতি কাহার'- দৌলত উজির বাহরাম খান।
প্রবন্ধ ও নিবন্ধ শব্দদ্বয় আজকাল অনেকটা অভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হলেও উভয়ের বুৎপত্তি ও প্রায়োগিক পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃষ্ট বন্ধন যার সেটি প্রবন্ধ। এখানে সংশ্লিষ্টতা পরম্পরায় প্রবন্ধের বিস্তৃতি ও গভীরতা অসীম ।
‘নির্দিষ্ট বন্ধন যার’ সেটি নিবন্ধ। প্রকৃষ্টতার উল্লেখ না থাকলেও নিবন্ধ প্রকৃষ্ট বন্ধনমন্দ্রিত অপেক্ষাকৃত স্বল্প অবয়বের একটি প্রবন্ধ। যেখানে লেখক একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নিজের প্রকৃষ্ট বিচরণ প্রকম্পিত রাখেন। নিবন্ধের নির্দিষ্টতা এর বন্ধন, বিস্তৃতি ও গভীরতাকে সীমাবদ্ধ রাখার প্রেরণা যোগায়। যদিও এটি কেবল বিস্তারভিত্তিক নয়; বরং বিশ্লেষণ যৌক্তিকতার আদলভিত্তিক। প্রবন্ধ একটি বিষয়কে যতটুক বিস্তৃত বিশ্লেষণে তুলে ধরে নিবন্ধ তা করে না। ঠিক উপন্যাস আর বড় গল্পের মত। নিবন্ধে নির্ধারিত বিষয়কে তুলের ধরার জায়গা সীমিত। তাই অল্পকথায় বুদ্ধিমত্তার সাথে তুলে ধরা প্রয়োজন।
প্রবন্ধে ‘প্র’ উপসর্গ, নিবেন্ধে ‘নি’ উপসর্গ বসেছে। সাইজে প্রবন্ধ বড় হবে, নিবন্ধ ছোট হবে। যেমন- রচনা ও প্যারাগ্রাফ এর পার্থক্যের মত। লেখার সময় রচনায় তথ্য প্রদান করা হবে, প্রাসঙ্গিক বিষয় আলোচনায় আনা যাবে, অপরদিকে নিবন্ধে নিজের চিন্তায় নিজেকে বিষয়ের মধ্যে আটকে রাখতে হবে।
নিবন্ধের চেয়ে প্রবন্ধের গন্ডি বড়। নিবন্ধ প্রধানত জার্নাল নির্ভর। জার্নালটি যে বিষয় ভিত্তিক -সাধারণত জার্নালভূক্ত নিবন্ধগুলো সেই নির্দিষ্ট বিষয়েরই হয়ে থাকে। প্রবন্ধের চেয়ে নিবন্ধ সুনির্দিষ্ট, গভীর, বিশ্লেষণধর্মী । বস্তুত কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্লেষণ ধর্মী লেখাই নিবন্ধ। এর সঙ্গে বর্ণনাও যোগ হলে প্রবন্ধ। সব নিবন্ধ প্রবন্ধ নয়, তবে সব প্রবন্ধই নিবন্ধ।
প্রবন্ধ ও নিবন্ধ

সংস্কৃত ভাষায় 'প্রবন্ধ' শব্দের সাধারণ অর্থ 'উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা', কিন্তু বাংলায় শব্দটির অর্থ দাঁড়িয়ে গেছে essay বা রচনা অর্থে। প্রবন্ধ শব্দের মূলানুগ অর্থ 'প্রকৃষ্ট বন্ধন যার', বাংলায় রচনা মাত্রই প্রবন্ধ ('আলগোছে তফাতে থেকে সমালোচনা প্রবন্ধে একটু-আধটু ঠোকর দেয় অনেকেই - অনুকরণ না হনুকরণ'- সৈয়দ মুজতবা আলী)।সংস্কৃত ভাষায় 'নিবন্ধ' শব্দটি অদৃষ্ট, ভাগ্যের লিখন, নিমিত্ত এমনসব অর্থে ব্যবহৃত হতে দেখেছি। একই অর্থে বাংলায়ও প্রয়োগ আছে। যেমন- 'নিবন্ধ খণ্ডাইতে পারে শকতি কাহার'- দৌলত উজির বাহরাম খান।
প্রবন্ধ ও নিবন্ধ শব্দদ্বয় আজকাল অনেকটা অভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হলেও উভয়ের বুৎপত্তি ও প্রায়োগিক পার্থক্য রয়েছে। প্রকৃষ্ট বন্ধন যার সেটি প্রবন্ধ। এখানে সংশ্লিষ্টতা পরম্পরায় প্রবন্ধের বিস্তৃতি ও গভীরতা অসীম ।
‘নির্দিষ্ট বন্ধন যার’ সেটি নিবন্ধ। প্রকৃষ্টতার উল্লেখ না থাকলেও নিবন্ধ প্রকৃষ্ট বন্ধনমন্দ্রিত অপেক্ষাকৃত স্বল্প অবয়বের একটি প্রবন্ধ। যেখানে লেখক একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নিজের প্রকৃষ্ট বিচরণ প্রকম্পিত রাখেন। নিবন্ধের নির্দিষ্টতা এর বন্ধন, বিস্তৃতি ও গভীরতাকে সীমাবদ্ধ রাখার প্রেরণা যোগায়। যদিও এটি কেবল বিস্তারভিত্তিক নয়; বরং বিশ্লেষণ যৌক্তিকতার আদলভিত্তিক। প্রবন্ধ একটি বিষয়কে যতটুক বিস্তৃত বিশ্লেষণে তুলে ধরে নিবন্ধ তা করে না। ঠিক উপন্যাস আর বড় গল্পের মত। নিবন্ধে নির্ধারিত বিষয়কে তুলের ধরার জায়গা সীমিত। তাই অল্পকথায় বুদ্ধিমত্তার সাথে তুলে ধরা প্রয়োজন।
প্রবন্ধে ‘প্র’ উপসর্গ, নিবেন্ধে ‘নি’ উপসর্গ বসেছে। সাইজে প্রবন্ধ বড় হবে, নিবন্ধ ছোট হবে। যেমন- রচনা ও প্যারাগ্রাফ এর পার্থক্যের মত। লেখার সময় রচনায় তথ্য প্রদান করা হবে, প্রাসঙ্গিক বিষয় আলোচনায় আনা যাবে, অপরদিকে নিবন্ধে নিজের চিন্তায় নিজেকে বিষয়ের মধ্যে আটকে রাখতে হবে।
নিবন্ধের চেয়ে প্রবন্ধের গন্ডি বড়। নিবন্ধ প্রধানত জার্নাল নির্ভর। জার্নালটি যে বিষয় ভিত্তিক -সাধারণত জার্নালভূক্ত নিবন্ধগুলো সেই নির্দিষ্ট বিষয়েরই হয়ে থাকে। প্রবন্ধের চেয়ে নিবন্ধ সুনির্দিষ্ট, গভীর, বিশ্লেষণধর্মী । বস্তুত কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্লেষণ ধর্মী লেখাই নিবন্ধ। এর সঙ্গে বর্ণনাও যোগ হলে প্রবন্ধ। সব নিবন্ধ প্রবন্ধ নয়, তবে সব প্রবন্ধই নিবন্ধ।

Comments

Popular posts from this blog

সত্তা সত্ত্ব সত্ত্বা / ড. মোহাম্মদ আমীন - শুবাচ

সত্তা/সত্ত্ব/সত্ত্বা

বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানমতে,
১. ‘সত্তা’ শব্দের অর্থ অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/বর্তমানতা।
২. সত্ত্ব শব্দের অর্থ স্বত্তা
সুতরাং সত্ত্ব = সত্তা =অস্তিত্ব/ স্থিতি/বিদ্যমানতা/ বর্তমানতা।
‘সত্ত্ব’ শব্দের আর একটি অর্থ আছে। সেটি হচ্ছে- ফলের রস দ্বারা প্রস্তুত কোন খাদ্যবস্তু।
যেমন: আমসত্ত্ব।
অনেকে ‘সত্তা/সত্ত্ব’ শব্দের পরিবর্তে ‘স্বত্ত্বা’ শব্দ লিখে থাকেন।
‘সত্ত্বা’ শব্দের অর্থ কী কিংবা আদৌ এমন শব্দ বাংলা ভাষায় আছে কিনা আমার জানা নেই।

প্রকৃতপক্ষে ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ভিন্ন অর্থদ্যোতক শব্দ। নিজের অধিকারে কোন কিছু আছে বুঝাতে স্বত্ব হবে। কেননা, স্ব মানে নিজে এবং ত্ব মানে অধিকারে। আর অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা বুঝাতে সৎ+ত্ব= সত্ত্ব । এর দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের মধ্যে শেষ্ঠ ‍গুণ। আর তৃতীয় অর্থ হলা- ফলের রস। এর বিশেষ্য হবে-সত্তা।
জনাব শহিদুলের ব্যাখ্যায় ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ শব্দের ব্যবহার নিশ্চয় আরও পরিষ্কার হয়ে গেল। অতএব ‘সত্তা’ ও ‘সত্ত্ব’ ব্যবহারে আর কোন সংশয় থাকার কথা নয়।

জোড়কলম : খিচুড়ি শব্দ / ড. মোহাম্মদ আমীন

জোড়কলম শব্দ মানে দুটো শব্দের অংশ ও তার অর্থ একসঙ্গে প্যাক-করা নতুন শব্দ। যে দুটি শব্দ নিয়ে জোড়কলম শব্দ গঠিত হয় তাদের প্রথমটির শেষাংশ ও দ্বিতীয়টির প্রথমাংশ ছেঁটে ফেললে যা থাকে তার একত্রীকরণে শব্দটি তৈরি হয় । অনেকটা গাছের অঙ্গজপ্রজননের জোড়কলম পদ্ধতির মতো, হয় তো গাছের অঙ্গপ্রজননের এই ধারনা থেকেই জোড়কলম শব্দ নামের উৎপত্তি । সুকুমার রায় এ রকশ মিশ্র শব্দকে খিচুড়ি শব্দ বলেছেন। এরূপ জোড়কলম বা খিচুড়ি শব্দের পুরোতঠাকুর হচ্ছেন চার্লস ডজজন বা Lewis Carroll (1832-1898). ইংরেজিতে শব্দগুলোকে portmantue বলা হয়। নামটিও দিয়েছেন ক্যারল। তাঁর ব্যবহৃত কিছু জোড়কলম শব্দের নমুনা দেখন :
slithy = slimy + lithe
mimsy = miserable + filmsy
frumious = furious + fumy
snark = snake + shark

ক্যারলের একটি গল্পে গাছের ডালে উপরে পা নিচে-মাথা হয়ে ঝুলছে কয়েকটি মানুষ। ক্যারল গাছটির নাম দিয়েছিলেন manypeeplia upsidownia. upsidownia = upside + down + ia). ইংরেজিতে এরূপ প্রচুর শব্দ আছে। একটি শব্দের প্রথম অংশের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে একটি নতুন শব্দ গঠন করা হয়েছে। উদাহরণ :
breakfast+lunch=brunch
motorist + …

তৎসম চেনার কৌশল / ড. মোহাম্মদ আমীন

তৎসম শব্দ চেনার কৌশল
১। প্রমিত বাংলা বানানের নিয়মানুযায়ী ‘ঈ ঊ ঋ এবং এ তিনটি বর্ণের কারচিহ্ন ‘ী, ‍ূ, ‍ৃ’- যুক্ত সব শব্দই তৎসম শব্দ।
২। মূর্ধন্য-ণ যুক্ত সব শব্দ তৎসম।
৩। যেসব শব্দের পূর্বে প্র, পরা, অপ, সম, অব, অনু, নির(নিঃ), দুর(দুঃ), উৎ, অধি, পরি, প্রতি, উপ, অভি, অতি প্রভৃতি উপসর্গ যুক্ত থাকে সেগুলো তৎসম শব্দ হবে।
৪। ক্ত্র, ক্ম, ক্ষ, ক্ষ্ণ, ক্ষ্য, ক্ষ্ম, ক্ষ্ম্য, গ্ধ, গ্ন্য, গ্ম, ঘ্ন, ঙ্ক্ষ, ঙ্ম, চ্ছ্ব, চ্ছ্র, জ্ঝ, জ্ঞ, ঞ্ছ, ঢ্র, ত্ত্ব, ত্ম্য, ত্র্য, দ্ব্য, দ্ম, ধ্ন, ধ্ম, ন্ত্য, ন্ত্ব, ন্ত্র, ন্ত্র্য, ন্দ্ব, ন্ধ্য, ন্ধ্র, ন্ন্য, ল্ম, শ্ছ, শ্ম, ষ্ক্র, ষ্ট্য, ষ্ট্র, ষ্ব, ষ্ম, স্ত্য, স্থ্য, হ্ন্য, হ্ম, হ্ল ইত্যাদি যুক্তবর্ণ কেবল তৎসম শব্দে দেখা যায়। অতএব এমন যুক্তবর্ণ-যুক্ত শব্দ তৎসম।
৫। বিসর্গযুক্ত শব্দগুলো এবং বিসর্গসন্ধিসাধিত শব্দগুলো তৎসম শব্দ।
৬। বহুবচনবাচক গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ, আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি প্রভৃতি থাকলে শব্দ তৎসম হয়।
৭। সমাসবদ্ধ পদের একটি অংশ তৎসম জানা থাকলে অপর অংশটি এবং সমস্তপদটিও তৎসম হয়। যেমন চন্দ্রমুখ শব্দে চন্দ্র অংশটি তৎসম জানা …